অর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম ইউরিডিস।
নিয়ম-শৃঙ্খলার বেড়াজালে আবদ্ধ থেকে অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয় বলে. কবি নিজেকে 'অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খল' অভিহিত করে শৃঙ্খল ভাঙার বার্তা দিয়েছেন।
পরাধীন ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের জাঁতাকলে মানুষকে নিষ্পেষিত হতে দেখে কবির হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। তিনি দেখেছেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলেই আইন ও বাধ্যবাধকতার বেড়াজালে মানুষকে নাকাল হতে হয়। সংগত কারণেই তিনি আইনের এই বেড়াজাল ভেঙে বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন। শুধু তাই নয়, এ লক্ষ্য সামনে রেখেই তিনি অনিয়ম দিয়ে প্রচলিত নিয়ম এবং উচ্ছৃঙ্খলতা দিয়ে শৃঙ্খলিত ও প্রথাবদ্ধ জীবনব্যবস্থা ভাঙতে চেয়েছেন। এজন্যই কবি নিজেকে 'অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খল' বলে অভিহিত করেছেন।
উদ্দীপকের সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হচ্ছে বিদ্রোহী চেতনা।
'বিদ্রোহী' কবিতায় নানা ব্যঞ্জনায় কবির বিদ্রোহের স্বরূপ ফুটে উঠেছে। যেখানেই অন্যায়-অত্যাচার দেখেছেন, সেখানেই তিনি বিদ্রোহের অগ্নিমন্ত্রে ফুঁসে উঠেছেন। বিশেষ করে পরাধীন মাতৃভূমিতে বিজাতীয় শাসকদের আগ্রাসন ও শোষণ-নির্যাতন তাঁকে পীড়িত করেছে। সংগত কারণেই এই অপশক্তির বিরুদ্ধে দ্রোহ ঘোষণা করেছেন তিনি। বস্তুত, মানুষ হয়ে মানুষের ওপর প্রভুত্ব ফলানো সামন্ত প্রভুদের ধ্বংসের মধ্যেই তিনি মুক্তির নতুন আলো দেখতে পেয়েছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে বিপ্লবী মানসের বারংবার ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে। কালের খেয়ালে ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু হলেও বিপ্লবী চেতনার মৃত্যু নেই। সময় পরিক্রমায় তা একজন থেকে অন্যজনে সঞ্চারিত হয়। ফলে বিপ্লবীর, বজ্রকঠোর আহ্বানে পরিবেশ ঘোলাটে হয়ে আসে। শিব বা মহাদেবের ত্রিনয়নও তখন অন্ধকারে ঢেকে যায়। প্রভুত্ব ফলানো নরপিশাচদের জীবন অভিশপ্ত হয়ে ওঠে বিপ্লবীদের প্রত্যাঘাতে। তথাকথিত সামন্ত প্রভুদের কাছে তারা যেন মূর্তিমান অভিশাপে পরিণত হয়। বিপ্লব-বিদ্রোহের এই বিধ্বংসী রূপটি আলোচ্য কবিতায়ও একইভাবে ফুটে উঠেছে। সেখানে বীর ধর্মের অনুসারী কবি সামন্ত প্রভুদের তৈরি সকল নিয়ম ও শৃঙ্খল ভেঙে ফেলতে প্রয়াসী হয়েছেন। অর্থাৎ উদ্দীপক ও 'বিদ্রোহী' কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই বিদ্রোহী চেতনার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। এটিই উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক।
উদ্দীপক ও 'বিদ্রোহী' কবিতায় যুগপৎ দুর্মর দ্রোহের বাণী উচ্চারিত হওয়ায় বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সগর্বে নিজের বিদ্রোহী কবিসত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষের শাসকদের শাসনক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দেন। কবি সকল অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি জানিয়ে দেন যে, উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল প্রশমিত না হওয়া। পর্যন্ত তিনি শান্ত হবেন না।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি নিজেকে ধ্বংসের প্রতীক শনি দেবের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে তাঁর বারবার আবির্ভাব মূলত দুর্মর দ্রোহের প্রতীক হিসেবে। এবারও এসেছেন সেই চেতনা বুকে ধারণ করেই। তিনি নিজেকে সৃষ্টিপাপের অনুতাপ, সাহারা-গোবি হাপ, অশিব তিত্ব অভিশাপ বলে মূলত অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রবল বিদ্রোহী চরিত্ররূপে আবির্ভূত হয়েছেন। একইভাবে 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও পুরাণোক্ত বিভিন্ন চরিত্রের সমন্বয়ে কবি মূলত দুর্মর দ্রোহের বাণী প্রকাশ করেছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে যেমন কবি ভয়ংকর রূপ ধারণ করে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রকাশে তৎপর, তেমনি রুদ্ররূপ দেখা যায় 'বিদ্রোহী' কবিতাতেও। উভয়স্থানেই কবিকণ্ঠ মূলত দুর্মর দ্রোহের কণ্ঠ। 'বিদ্রোহী' কবিতায় যেমন প্রকাশ পেয়েছে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে, কবির তীব্র ক্ষোভ ও বিদ্রোহ; তেমনি আলোচ্য কবিতাংশেও ধ্বনিত হয়েছে কবির বিদ্রোহী সত্তার প্রকাশ। তাই বলা যায় যে, "উদ্দীপকের মতো 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও দ্রোহের স্বাক্ষর নিহিত"- উক্তিটি যথার্থ।
Related Question
View Allঅর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম ইউরিডিস
উত্তর
বিদ্রোহী
অর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম ইউরিডিস
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!